বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ - ১০:৩৭
ব্যাংকের মুনাফা গ্রহণ কি শরিয়তসম্মত?

ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের ওপর প্রাপ্ত মুনাফা বা সুদ ব্যবহার করা শরিয়তসম্মত কি না—এ প্রশ্ন মুসলিম সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। এ প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ফাল্লাহজাদে শহীদ বিপ্লবী নেতার ফতোয়ার আলোকে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সংসদে অনুমোদিত এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল কর্তৃক বৈধ ঘোষিত ‘সুদমুক্ত ব্যাংকিং নীতিমালা’ অনুযায়ী পরিচালিত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য। ফলে এসব ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা গ্রহণে কোনো শরিয়তগত সমস্যা নেই।

প্রশ্ন: “হুজুর, আমার কিছু টাকা ব্যাংকে জমা আছে। ব্যাংক সেখান থেকে আমাকে কিছু মুনাফা দেয়। আমি সেই অর্থ ব্যবহার করি। এতে কি কোনো শরিয়তগত সমস্যা আছে?”

উত্তর: হুজ্জাতুল ইসলাম ফাল্লাহজাদে বলেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.)’র দৃষ্টিতে, যদি ব্যাংক ইসলামী আইনসম্মত নীতিমালা ও অনুমোদিত চুক্তির আওতায় পরিচালিত হয়, তাহলে সেখানে অর্থ জমা রাখা এবং প্রাপ্ত মুনাফা গ্রহণ বৈধ।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের সম্পর্ক সাধারণ ঋণ–সুদের সম্পর্ক নয়। বরং এটি শরিয়তসম্মত বিভিন্ন আর্থিক চুক্তি—যেমন মুদারাবা, ওকালত বা বিনিয়োগভিত্তিক চুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ব্যাংক সেই চুক্তির আলোকে অর্থ ব্যবহার করে এবং অর্জিত লাভের একটি অংশ গ্রাহককে প্রদান করে। তাই এটি প্রচলিত হারাম সুদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন ব্যাংকের মুনাফা মানেই আগাম শর্তযুক্ত সুদ, যেমন কাউকে টাকা ধার দিয়ে নির্দিষ্ট অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা। অথচ ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিষয়টি ভিন্ন। এখানে ব্যাংক নির্ধারিত শরিয়তসম্মত চুক্তি অনুযায়ী অর্থ বিনিয়োগ করে এবং প্রাথমিকভাবে একটি আনুমানিক মুনাফা প্রদান করে। পরে চূড়ান্ত হিসাব বা সমঝোতার মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হয়।

হুজ্জাতুল ইসলাম ফাল্লাহজাদে আরও উল্লেখ করেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার অর্থ ব্যাংকে আমানত হিসেবে রাখেন এবং ব্যাংককে তা ব্যবহারের অনুমতি দেন, অথচ নির্দিষ্টভাবে মুনাফার শর্ত আরোপ না করেন, তাহলে ব্যাংক স্বেচ্ছায় যে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করবে, সেটিও গ্রহণ করা বৈধ।

একইভাবে, যদি ওকালতভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ বিনিয়োগ করে, তাহলে সেই চুক্তির আওতায় অর্জিত মুনাফাও শরিয়তসম্মত বলে গণ্য হবে।

সারসংক্ষেপ: শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (রহ.)’র ফতোয়া অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো ব্যাংক যদি অনুমোদিত ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা এবং শরিয়তসম্মত আর্থিক চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তাহলে সেখানে অর্থ জমা রাখা ও প্রাপ্ত মুনাফা গ্রহণ বৈধ এবং এতে কোনো শরিয়তগত সমস্যা নেই।

তবে ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, মুসলমানদের উচিত আর্থিক লেনদেনে সচেতন থাকা এবং নিশ্চিত হওয়া যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রকৃত অর্থেই শরিয়াহভিত্তিক নীতিমালা অনুসরণ করছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha